দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগ থেকে বিএনপি নেতারা যেসব কার্যক্রম করেছেন তা অনেকটা পরিণত আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, ’এখন পর্যন্ত বিএনপি নেতারা যেসব কার্যক্রম করেছেন, তা অনেক ম্যাচিউর মুভ।’
বুধবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠান তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, ঢাকার বাইরে সমাবেশ, গণস্বাক্ষর, লিফলেট বিতরণ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। তবে অন্যান্য সময় বিএনপির আন্দোলনে সহিংসতা দেখা গেলেও খালেদার কারাদণ্ড হওয়ার পর তাদের কোনো কর্মসূচিতে সহিংসতা দেয়া যায়নি।
উস্কানিতে পা না দিতে বিএনপি নেতাদের খালেদা জিয়া যে নির্দেশ দিয়েছিল সে ব্যাপারেও কথা বলেন বুলবুল। তিনি বলেন, ’দলটির (বিএনপি) চেয়ারপারসন বলেছেন কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিতে। সেইভাবেই তারা কর্মসূচি দিচ্ছেন। আন্দোলন করছেন। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার পর কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) বলেননি যে, আমাকে যে কোনভাবেই বের করো। তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে। এটাকে আমার কাছে সিনিয়র নেতার যে বৈশিষ্ট্য এবং ধৈর্য্য থাকে সেটারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়।’
তবে দলটির (বিএনপি) মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আন্দোলনের বেশ আগ্রহ আছে মনে হচ্ছে বলেন উল্লেখ করেন বুলবুল। বলেন, ’উল্টো দিক থেকে আবার দেখা যায় যে, তারা (বিএনপির মাঝারি পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ) বলছেন যে, কেন জোরালো আন্দোলন হচ্ছে না। কেন বড় প্রতিবাদ হচ্ছে না। এজন্য সিনিয়র নেতারা হয়তো চাপে আছেন। সব মিলিয়ে তারা সম্মিলিত মুভ করছে। এটাকে আমি ম্যাচিউর মুভ বলবো। তবে দলের নেতৃত্বের উপর প্রচণ্ড চাপ আছে। শান্তিপূর্ণ বলতে এর ডেফিনেশন বা কতদিন শান্তিপূর্ণ রাখতে পারবেন, সেটা দেখার বিষয়। তবে ইতোমধ্যে দুই-তিনটি কর্মসূচি দিয়েছেন, সেটা কিন্তু ভাল।
’আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্যালকুলিটিভ মুভ। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসছে। তাদেরকে (বিএনপি) আত্মরক্ষা এবং নেত্রীকে বের করে আনা, সব মিলিয়ে ভেবেচিন্তে এগোতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চাইছে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সমাবেশ, মানববন্ধন করতে। এটা করতে পারলে ভালো। তারা চাইছে সারাদেশে আন্দোলনটা ছড়িয়ে দিতে। তবে সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব যে চাপের মধ্যে আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এ সময় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় নির্বাচনের আগাম প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক।
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ছাড়া সবাই কিন্তু নির্বাচন কেন্দ্রীক বক্তব্য দিয়েছেন। সাত মার্চ নিয়ে বক্তব্য শুরু করলেও মূলত তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ’তোফায়েল আহমেদ স্মৃতিচারণ করেছেন। ওইদিন (ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভায়) তিনি মঞ্চে ছিলেন, স্লোগান দিয়েছেন। সেই স্মৃতিচারণ তিনি করেছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সামগ্রিক বিষয় ছিল। রাজনৈতিক এবং সাত মার্চের স্বীকৃতি, সব নিয়ে তিনি কথা বলেছেন।’
রাজনীতিতে স্পেস দিলে নারীরা দ্রুত এাগোবে
মিডিয়াতে নারীরা এগিয়ে আসছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে নারীরা বেশ উজ্জ্বল বলে মনে করেন মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, নারী নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সব দিকেই অগ্রগতি আছে। গ্রাম এবং শহরে উন্নয়নের ধারা পাল্টে গেছে। গ্রামে কিন্তু কাজের মেয়ে পাওয়া মুশকিল। তারা ঢাকায় চলে আসছে। তারা পোশাক কারখানায় কাজ করছে। তারা এখন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। দৃশ্যমানভাবে নারীর অগ্রগতি আছে।
তিনি বলেন, ’আমাদের সংস্কৃতি কিন্তু নারীবান্ধব। রাজনীতিতে যদি একটু স্পেস (জায়গা) দেয়া হয় তাহলে নারীরা কিন্তু আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। আমি নারীদের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট বলবো না। তবে অগ্রগতি দৃশ্যমান।’
এ সময় শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ এবং মুসলমানদের মধ্যে যে দাঙ্গা হচ্ছে সে বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন বুলবুল। তিনি বলেন, ’এটির সঙ্গে কিন্তু আমি মিয়ানমারের একটা সম্পর্ক দেখতে পাই। যখন মিয়ানমারে রাখাইনদের সমস্যার সূচনা লগ্নে শ্রীলঙ্কায় কিন্তু রাখাইনরা আশ্রয় নিয়েছিল। যেখানে আশ্রয় নিয়েছে সেখানে কিন্তু উগ্র বৌদ্ধরা আক্রমণ করেছিল। লক্ষণ কিন্তু তখনই ছিল। তবে এই লক্ষণটা খারাপ। আমরা সাধারণত দেখেছি বৌদ্ধ উগ্র না। কিন্তু এখন তারা জাতীয়তাবাদী হয়ে উগ্র হয়ে উঠছে। এটা ভাল লক্ষণ নয়। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। সব মিলিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র:ঢাকাটাইমস