কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল।শোনা যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী‌দের বারো মাসে তেরো পার্বন। শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব, আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।



আজানের সময় গান-বাজনা বন্ধ রাখতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী‌দের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের।শ‌নিবার (৫ অক্টোবর) দুপু‌রে ঢা‌কেশ্বরী ম‌ন্দি‌রে মহাসপ্তমী‌তে শারদীয় দ‌ু‌গোৎস‌বে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠা‌নে এ আহ্বান জানান তিনি।

‌হিন্দু ধর্মাবলম্বী‌দের উদ্দেশে ওবায়দুল কা‌দের ব‌লেন, সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। যখন আজান হয়, তখন আপনা‌দের গান বাজনা বন্ধ রাখবেন। এখা‌নে মুসলমান‌দের ও বড় এক‌টি অংশ আসেন। এটা যেন সবার উৎসব হয়, কারো অনুভূতিতে যেন আঘাত না লাগে সেজন্য আপনারা এ বিষয়টা খেয়াল রাখবেন।

‌তি‌নি ব‌লেন, শারদীয় এই উৎসব শুধু হিন্দুরা নয়, সব ধর্মের সব সম্প্রদায়ের লোকজন এটিকে উৎসব হিসেবে গ্রহণ করে।

সেতুমন্ত্রী ব‌লেন, দে‌শের সা‌র্বিক প‌রি‌স্থি‌তি ভাল আছে ব‌লে গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ৫ শ‌’ পূজামণ্ডপ বেশি হ‌য়েছে। আর সারা দে‌শে ৩১ হাজার ৪ শ‌তো ৮৩টি মণ্ড‌পে এবার পুজা উৎযাপন হ‌চ্ছে। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসলে পূজা পার্বণ ও উৎসব পালন, বিশেষ করে হিন্দু সমাজের বড় উৎসব দুর্গোৎসবে পূজারী ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই পরিবেশটাকে উৎসবমুখর কর‌তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা‌হিনী সারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা দি‌চ্ছে।

ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, আমি হিন্দু ভাইবোনদের বলবো শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতায় আছেন। আপনাদের কোন ভয় নেই। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন।



উল্লেখ্য,ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সর্বজনীন পূজা শুরু হয়। মুলত দেবী দুর্গাকে মাথায় রেখেই দেশমাতা বা ভারতমাতা বা মাতৃভূমির জাতীয়তাবাদী ধারনা বিপ্লবের আকার নেয়। দেবী দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম গানটি রচনা করেন যা ভারতের স্বাধীনতা-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র।