কাশ্মীর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত সরকার, কাশ্মীরি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি এবং পাকিস্তান সরকারের মধ্যে প্রধান আঞ্চলিক বিরোধ। যদিও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে ১৯৪৭-এর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় থেকেই আন্তঃরাজ্য বিরোধ রয়েছে, এছাড়াও কাশ্মীরি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি্র সাথেও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি বা সম্পূর্ণ স্বাধীন ঘোষণা করার জন্য অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে
ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন তুলে নিয়েছে মোদী সরকার। এ নিয়ে পাক-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। নাড়া পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনেও। বিশ্ব মোড়লেরা পক্ষপাত কিংবা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সমঝোতা চাইছেন। এমনও ধারণা করা হচ্ছে, কাশ্মির সংকটকে ঘিরে যেকোনও সময় চিরশত্রু দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে।

এবার কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাখদুম শাহ মেহমুদ কুরেশি।

গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বলা হয়েছে, গতকাল বিকেলে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে।

পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিতর্কিত ও বিরোধপূর্ণ জম্মু ও কাশ্মিরকে বিভক্ত করে ভারত সরকার অবৈধ এবং একতরফাভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা কখনোই উচিত নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়টি তুলে ধরেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চলমান এই সংকটকে কেন্দ্র করে গেল এক মাসে কাশ্মিরে মানবাধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে মাখদুম শাহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, কাশ্মির পরিস্থিতি এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এবং নিরীহ মুসলমানদের জন্য বড় হুমকি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফোনালাপে কাশ্মির সমস্যা সমাধানে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ওপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন মাখদুম শাহ।

উল্লেখ্য, এই ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ যোগ হয়েছিল ভারত ও কাশ্মীরের নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে। বিধানটিতে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়া হয়, তা ছাড়া পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
কিন্তু ভারতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির নির্বাচনী ওয়াদা ছিল এটা বাতিল করা।