সিলেটের যাত্রীরা দীর্ঘদিন থেকে রেস্টুরেন্ট মালিকদের কাছে অসহায়। নিম্নমানের খাবার তারা বিক্রয় করে থাকে উচ্চমূল্য। নিরুপায় হয়ে এসব খাবার খেতে হয় যাত্রীদের। গতকাল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুরে পাকঘর নামক রেস্টুরেন্টে ইফতার নিয়ে মালিকের অবাক করা কান্ড তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী।
পবিত্র রমজানের ইফতার নিয়ে পাকঘর রেস্টুরেন্টের কান্ড সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে। ভুক্তভোগীদের হাত থেকে ইফতারের প্লেইট কেড়ে নিয়েছে রেস্টুরেন্টের মালিক। এসব নিজের ফেসবুক আইডিতে তুলে ধরেছেন কায়ছার আহমেদ সাব্বির নামের এক ভুক্তভোগী। তার এই স্ট্যাটাস আজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। অনেকেই এটি শেয়ার করেছেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো…
শেরপুর স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চাচ্ছি।
গতকাল সিলেট থেকে আসার পথে আমাদের বাস(এনা) এই রেস্তোরাঁয় দাঁড়ায় ইফতারের জন্য। যথারীতি সবাই নামে কিন্তু ফুড আইটেম এবং দাম অনেকের পছন্দ হয়না। তাই তারা খুচরা করে ইফতারের আইটেম নেয়। হুট করে মালিক চলে আসে, এবং স্টাফদের গালিগালাজ করে। কেন আমাদেরকে স্টাফরা খাবার দিলো?
আমি বললাম ইফতারি দিছে এতে কি হইছে? সে বললো, যদি এখানে খাই তাহলে তার ১৯০ টাকার প্যাকেজটাই খেতে হবে, অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। এখানে বলতে হয়, তার ইফতারের আইটেম ১৯০ টাকা হিসেবে কিছুই ছিল না। কেউ হয়তো ২০ টাকার ছোলা, ২০ টাকার পিয়াজি, ২০ টাকার জিলাপি নিয়েছিল। আমি ২০ টাকার ছোলা এবং ২/৪ টা পিয়াজি এবং ২০ টাকার জিলাপি নিয়ে আজানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, সাথে আরো কয়েকজন ছিল।
You Can’t Believe….! দোকানের মালিক আমাদের হাত থেকে ইফতারির প্লেটটা টান মেরে নিয়ে নিলো! জাস্ট অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।আজান দিলো। অই হোটেলের পাশেই একটা ছোট্ট চা বিড়ির দোকান ছিল, আমরা কথা না বাড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম, কিছু একটা দিয়ে রোজা ভাংতে হবে। কেউ বিস্কিট কিনলো কেউ বা একটা পানি কিংবা চানাচুর নিলো।
আমাদের মালিক এখানেও হাজির, স্ট্রেইট গালি দিলো দোকানদারকে। ইফতারির সময় তার দোকান বন্ধ করার জন্য হুমকি দিয়ে গেল। আমাদের মধ্যে একজন চেতলো। মালিক বললো, ভাই খাইলে খান নইলে ঝামেলা বাধায়েন না, আর ঠাস ঠুস দুই চারটা ইংলিশ মেরে দিলো।
আজান শেষ। কেউ একটা বিস্কিট, কেউ এক মুট চানাচুর, কেউ এক ঢোক পানি, কেউ বা সিগারেটের একটা টান দিয়ে রোজা ভাংলো, শুনতেই খারাপ লাগতেছে তাইনা? আমাদের ড্রাইভার, আর সুপারভাইজার ঠাসায়া খাইতেছে তখন। হোটলের লোক গুলা কেমন করে যেন আমাদের এই ১৫-২০ জনের দিকে তাকায়া ছিল ওদের কাছে টাকা নাই? ওরা কি রোজা রাখে নাই? এরকম ভাব ছিল।
একতাই বল, শুনছেন না? এবার ১০/১২ জন মিলে ড্রাইভার আর সুপারভাইজারকে ধরলাম।
আপনি কি এখানে ফ্রি খান? শেরপুরে এত বড় বাজার থাকতে আপনি এখানে খান কেন? আপনাদের মধ্যে কন্টাক্ট কি? সুপারভাইজার এর অমায়িক উত্তর আমরা চাইলে বাংলাদেশের সব হোটেলে ফ্রি খাইতে পারি, এখানের খাবার ভাল বলেই দাড়াই, এই যে দেখেন সবাই খাইতাছে।
আমরা সবাই এবার আমাদের সোজা আঙ্গুল টা ব্যাকা করে ফেললাম। সিলেটের স্থানীয় কয়েকজন ক্ষেপে গেল। ড্রাইভার আর আর সুপারভাইজার তখন আছে সরির উপরে। সিনেমার মেইন ভিলেন আর তার ভাই( হুজুর টাইপ) আসলো শেষে মাফ চাইতে। তখন তারা ফ্রি ইফতার করাতে চাইলো, আবার বিভিন্নভাবে তাদের হোটেলের রুলস বুঝানো শুরু করলো।
আমাকে সাইডে নিয়ে গিয়ে বলে ভাই আপনি খান, ইফতারি করেন, টাকা দিতে হবে না। আমি ডিরেক্ট মানা করে দিলাম। আমার সাথে আরো ১৫ জন ছিল তারা ইফতার করতে পারিনি, আমি কেনো করবো৷ মাফ চাইলো অনেক বার, ইফতারির আগের ব্যবহার আর পরের ব্যবহার সম্পুর্ণ আলাদা। কারন তারা চাচ্ছিল এ যাত্রায় ঝামেলা মিটে যাক কোনভাবে।
আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন এই ঝামেলা কয়দিন পোহাবে সাধারণ মানুষ? যাদের পকেটে কম টাকা তারা কই খাবে? যাদের পকেটে টাকা আছে, তারাও কি টাকা অনুযায়ী খাবার পেল। খাবার নিয়েও পলিটিক্স, ইফতারি নিয়েও সিন্ডিকেট। ইফতারের সময় আমরা মানুষ ডেকে ডেকে একটা পিয়াজি, একটা বেগুনি হাতে দেই, নে বাবা যতটুক আছে খা। আর এইসব লোভী ব্যবসায়ী হাত থেকে ইফতারির প্লেট নিয়ে যায়।