বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আছে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল মার্চ মাসের শুরুর দিকে এরপর থেকেই দেশে আস্তে আস্তে করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে।তবে প্রথম দিকে হয়তোবা মানুষ ভেবে নিয়েছিল যে এই ভাইরাস বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে না। এবং তাদের এ ধারণা করার পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল গবেষকরা কখনো বলেছিল যে আবহাওয়ার কারণে এই ভাইরাস অনেকটা দমিয়ে থাকতে পারে এবং তখন বাংলাদেশ আক্রান্তের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা ছিল যার ফলে মানুষ ভাবতে পারছিল না যে শেষ পর্যন্ত কি হতে চলেছে

আরো পড়ুন

Error: No articles to display



করোনাভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করার পর রোগী ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না। এ সময় দেহে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক ও হৃৎপিন্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গও অচল হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পড়ে রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)তে রেখে ভেন্টিলেশন প্রয়োগের। সারা দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউ রয়েছে মাত্র ৩৯৯টি। ভেন্টিলেটর সংকটে মারা যাচ্ছে রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বরাদ্দ ৩৯৯টি আইসিইউ। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ২১৮টি। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা হাসপাতালগুলোতে রয়েছে ৪৭টি আইসিইউ শয্যা। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৪টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৮টি, সিলেট বিভাগে ১৬টি, রাজশাহী বিভাগে ২৮টি, খুলনা বিভাগে ১৮টি, রংপুর বিভাগে ১৩টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। দেশে রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে ৭৪৬ জন। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতেও নেই ভেন্টিলেটর সুবিধা। আইসিইউ সুবিধা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হয় স্বজনদের। রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের একজন পরিচালক মারা গেছেন। প্রয়োজন থাকলেও তার জন্য আইসিইউয়ের ব্যবস্থা হচ্ছিল না। ভেন্টিলেশন সাপোর্ট না থাকায় তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তার ভাইয়ের ভেন্টিলেশন খুলে তাকে দেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইসিইউ-ভেন্টিলেটর। যার অভাবে প্রতিদিনই বিশ্বে হাজার হাজার করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এর সংকট রয়েছে বাংলাদেশেও। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ অত্যাবশ্যকীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে করোনা মোকাবিলায় কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার আইসিইউ ও ৫ হাজার ভেন্টিলেটর প্রস্তুত করা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত মোট রোগীর ৮০-৮২ শতাংশ সাধারণ চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাকি ১৮-২০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা নিতে হয় হাসপাতালে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রোগীর জন্য প্রয়োজন হতে পারে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস সুবিধা বা ভেন্টিলেটর। আর জটিল ৫ শতাংশের জন্য লাগতে পারে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত থাকায় আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ছাড়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা খুব মুশকিল। কারণ করোনায় শ্বাসকষ্টের রোগীর যেকোনো সময় অবস্থা খারাপ হতে পারে। ভেন্টিলেশন ছাড়া চিকিৎসার প্রস্তুতি শূন্যের কোঠায়। দেশে কমপক্ষে ৫ হাজার ভেন্টিলেটর দরকার। সরকারি-বেসরকারি আইসিইউর দায়িত্বের থাকা নার্সদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।



বর্তমান সময়ে সারা বিশ্ব যখন প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে তখন এশিয়ার দেশগুলোতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে বাংলাদেশ ভারত এশিয়ার জনসংখ্যা বহুল দেশগুলোতে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশ ভালভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের এখন প্রায় সবগুলো জেলাতেই এই মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল পরিমানে শনাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে দিনকে দিন

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display