দেশে থাকা পরিবার-পরিজনদের মায়া ত্যাগ করে একটু ভালো থাকার আশায় জীবিকার তাগিদে প্রবাসীরা পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে সেখানে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিন রাত খেটে উপার্জন করেন তারা কারণ একটাই নিজের প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানো তবে প্রবাসীদের এই কষ্ট বিফলে যায় না তাদের পাঠানো অর্থে যেমন পরিবারের মুখে আস্থার হাসি ফোটে ঠিক তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকা ও সচল থাকে। তবে প্রবাসীদের ভোগান্তির যেন কোন শেষ নেই সবক্ষেত্রেই তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় তারা যে দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা তাদের যে সম্মান অনেক এটা অনেকেই বোঝেন না যার ফলে আমরা প্রবাসীদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে পারিনা।


মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফিরে আসছেন অবৈধ শ্রমিকেরা। ইতিমধ্যেই ফিরেছেন ২৯ হাজার শ্রমিক। আরও কয়েক হাজার আছেন ফেরার অপেক্ষায়। টিকিটসংকটে আটকা পড়ছেন অবৈধ শ্রমিকেরা। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে বাড়তি ফ্লাইট বা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সাধারণ ক্ষমার সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাবে। তাই প্রতিদিন শত শত শ্রমিক দেশে ফেরার জন্য অনুমতি নিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা উড়োজাহাজের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না। সম্প্রতি এ পরিস্থিতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ ডিসেম্বর বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রথম আলোকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


জানা গেছে, প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনতে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটের পাশাপাশি বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলো কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সেই উদ্যোগ নিতেও অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। সাশ্রয়ী ভাড়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা চিঠি দেওয়ার পর, সংকট সমাধান করা নিয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হকের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ফোনে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

বিমান সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি উড়োজাহাজের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে ইতিমধ্যেই। বাড়তি ফ্লাইট দিয়েও চাহিদা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিমান। কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় ফিরতে কোনো এয়ারলাইনসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।

জানা গেছে, সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা আসার ফ্লাইটে কোনো আসন খালি নেই। ১৮ ডিসেম্বর পরবর্তী ফ্লাইটগুলোতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার (ওয়ানওয়ে) টাকায় বিক্রি হচ্ছে টিকিট। এয়ার এশিয়া সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ার এশিয়ায় ডিসেম্বর মাসের কোনো আসন খালি নেই। আর মালিন্দো এয়ারের কুয়ালালামপুর-ঢাকার ওয়ানওয়ের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৪৫ হাজার টাকায়। সপ্তাহে ১২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে তারা।

বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা সপ্তাহে ৭টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। পুরো ডিসেম্বরে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা আসার কোনো টিকিট নেই বিমানের ফ্লাইটে। একই অবস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসেও। অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদার কারণে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস বাংলা।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার আওতায় সুবিধা নিয়েছেন। এই সময় পর্যন্ত মোট আবেদন পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার। নির্ধারিত সময়ে ফিরে না এলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করবে অবৈধ শ্রমিকদের। ফিরে আসার অনুমতিপত্র (ট্রাভেল পাস) নিতে দূতাবাসের পাসপোর্ট সেন্টারগুলোতে ভিড় করছেন।

মালয়েশীয় প্রবাসীরা জানান, একজন বৈধ কর্মী ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ রিঙ্গিত (মালয়েশীয় মুদ্রা) বা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা আয় করলেও অবৈধ কর্মী আয় করেন মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এ কারণে স্থানীয় নিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট সময় পর চাকরি নবায়ন করেন না। এতেও অনেকে অবৈধ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া পড়ার নামে, বেড়ানোর নামে অনেকে মালয়েশিয়া গিয়ে থেকে গেছেন। কেউ কেউ অনিয়মিত উপায়ে সাগর পাড়ি দিয়েও মালয়েশিয়া গেছেন। আবার অনেকে কাজ নিয়ে গেলেও চুক্তি ভঙ্গ করে নিয়োগকারীর প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে দেশটির এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যান। তাঁরাও অবৈধ হয়ে পড়েছেন।

গত জুলাই থেকে অবৈধদের ধরতে অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন পুলিশ। প্রতি মাসেই শত শত বাংলাদেশি পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যেতে থাকেন। অনেকেই হাইকমিশনের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফেরত আসেন। গত বছর দেশে ফেরত আসেন ৭ হাজার ৩৭২ জন। আর এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত দেশে ফিরে আসেন ৩ হাজার ১১৬ জন। কিন্তু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর সেপ্টেম্বর থেকে এটি বাড়তে থাকে। গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ফেরার এ সুযোগ পাচ্ছেন অবৈধ অভিবাসীরা।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বৈধভাবে কাজ নিয়ে মালয়েশিয়া গেছেন সাড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশি। নানা অনিয়মের কারণে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে এ শ্রমবাজারটি বন্ধ আছে।


প্রবাসীরা হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশিরভাগই প্রবাসীদের অবদান। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে এই কারণে তাদেরকে বলা হয় রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে তারা যেমন নিজেরা সাবলম্বী হোন ঠিক তেমনি দেশ ও তাদের দেওয়া রেমিট্যান্স দিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যক মানুষ পাড়ি দিচ্ছে ভিনদেশে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সেখানে গিয়ে নিজেদের মতো করে কাজকর্ম এবং অন্য পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে উপার্জন করছে তারা।