বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের এমপি ও সংসদে সরকারি দলের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীকে নিয়ে। ক্যাসিনো অভিযান শুরু হবার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন শামসুল হক চৌধুরী ও তার পরিবার।
তাস না খেললে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে, এমন বক্তব্য দিয়ে ক্যাসিনো অভিযানের সমালোচনা করতে গিয়ে নিজেই সমালোচনার মুখে পড়েন, এরপর চট্রগ্রামে কর্তব্যরত এক পুলিশ পরিদর্শক যখন তার ফেসবুকে লিখেন ক্যাসিনো থেকে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী আ্য় ১৮০ কোটি টাকা, তখন আরো একবার ভাইরাল হন তিনি । এরপর সেই পুলিশ পরিদর্শক যখন বরখাস্ত হন, তখন আবারো সমালোচনার মুখে পড়েন জাতীয় সংসদের হুইপ। এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন। ফাঁস হওয়া তার ফোনালাপে প্রবীন আ’লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরীকে গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি দিতে শোনা যায়।



তিনি জাতীয় পার্টি ও বিএনপি হয়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন- ইতিমধ্যে এমন অভিযোগ তুলেছেন দিদারুল আলম চৌধুরী নামে তারই দলের এক নেতা।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে চোয়ার মারি দাঁত ফেলাই দিইয়ুম-এমন ’হুমকি’র একটি বিষয়ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের অস্ত্রহাতে গুলিবর্ষণের একটি দৃশ্য। সেই ভিডিওটি অবশ্য ফেসবুকে শারুনের নিজস্ব অ্যাকাউন্টেই আপলোড করা হয়।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি রাইফেল হাতে অনবরত গুলি ছুড়ছেন হুইপপুত্র শারুন।

এ প্রসঙ্গে হুইপপুত্র শারুন শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, আমি গত বছর রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানকার একটি শ্যুটিং ক্লাবে শ্যুটিংয়ের দৃশ্য সেটি। অস্ত্র হাতে শ্যুটিংয়ের এই ছবিটি আমি নিজেই তখন ’ফান’ শিরোনাম দিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট দিয়েছিলাম। পর্যটকরা সবাই এসব ক্লাবে শ্যুটিং করতে পারেন।






হুইপপুত্র শারুন উল্টো প্রশ্ন করেন অস্ত্রহাতে মহড়ার ছবি কী কেউ নিজের ওয়ালে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, আমার বাবা তিন তিনবার মনোনয়ন পেয়ে পটিয়া থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমি একদিনের জন্যও পটিয়ায় গিয়ে কোথাও প্রভাব খাটিয়েছি, কোথাও ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছি এমন অভিযোগ কেউ করতে পারবে না। মূলত আমাদের রাজনৈতিক সাফল্যকে একটি মহল সহ্য করতে পারছেন না।

হুইপপুত্র শারুন আরও বলেন, শেখ কামালের নামে আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দু’বার। আগামী ১৯ অক্টোবর এই টুর্নামেন্ট তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। আমার বাবার ’ব্যবসায়িক শত্রু’ দিদারুল আলম চৌধুরীসহ ঈর্ষাপরায়ণ গুটিকয়েক মানুষ বিরোধিতার স্বার্থে কিছু বক্তব্যকে বিকৃত করে সামনে এনে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে তারা সফল হবেন না।