বয়স মাত্র ১৩, অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী, এরই মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে রাজধানীর পল্লবী এলাকার মডেল স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন।
অপরিপক্ক বয়সের প্রেমের পরিনতি যে কোন শুভকর বার্তা নিয়ে আসে না জেরিন-ফাহিমের প্রেমকাহিনী সেই কথাই প্রমান করলো ।

প্রেমিক ফাহিম একই স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র ,বয়স ১৫ এত অল্প বয়সের জেরিন-ফাহিমের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিয়ে চায়নি তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাই গত ৮ জুন রাতে তারা দুজন বাসা থেকে অজানা উদ্দেশে বেরিয়ে য়ায়। এ ঘটনার পরের দিন মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জেরিনের বাবা জামাল উদ্দিন।

নিখোঁজ জেরিনের পরিবার ও পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রেমিকা জেরিনকে নিয়ে পালানোর তিন দিন পর ফাহিম নিজের বাসায় ফিরে আসে। কিন্তু তার সঙ্গে ছিল না জেরিন। পরে জেরিনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা ফাহিমকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মামুন নামের এক ব্যক্তি জেরিনকে রাত ১১টার দিকে তার কাছে থেকে নিয়ে গেছে। এরপর ছয়দিন ধরে জেরিনের আর কোনো খোঁজ মিলছে না। ফাহিমের দাবি, পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন নামের ওই ব্যক্তি জেরিনকে অন্য কোথাও নিয়ে গেছে।

তবে পুলিশ বলছে, গন্ডার নামের অন্য এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে জেরিনকে জোড় করে বিয়ে দিয়েছে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন। সেই ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বর ট্রাকিং করে সর্বশেষ অবস্থান জানা গেছে কুমিল্লায়।

তবে জেরিনের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ফাহিমই জানে জেরিনের সঙ্গে কী হয়েছে। অথবা সে নিজেই জেরিনের কোনো ক্ষতি করেছে।

জেরিনের মায়ের হাতে থাপ্পড় খেয়েছিল ফাহিম

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিখোঁজ জেরিনের মামা শামীম আহমেদ দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ’জেরিনের বয়স খুবই অল্প। এই বয়সে প্রেমের বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। গত বছরের রমজানে জেরিনের মা ফাহিম ও জেরিনের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারে। তখন তিনি রেগে ফাহিমকে দুটা থাপ্পড়ও মেরেছিল। কিন্তু এরপরও তাদের সম্পর্ক আগের মতোই ছিল। আমার মনে হয়, এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই জেরিনের কোনো ক্ষতি করেছে ফাহিম।’

নিখোঁজের রাতে দুজনকে দেখা গেছে সিসিটিভি ক্যামেরায়

গত ৮ জুন রাত ৯টার পরে বাসা থেকে বেরিয়েছিল জেরিন। পরে রাত ১১টার দিকে বি-ব্লকের ১১ নম্বর সড়কে তাদেরকে এক সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা গেছে সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফাহিম ও তার এক বন্ধু জেরিনকে একটি প্রাইভেটকারে তুলেছিল। আর জেরিনের পরিবারের দাবি, ওই স্থান থেকেই জেরিনকে অপহরণ করা হয়।

তবে পুলিশের কাছে ফাহিম দাবি করে, ওই রাতে পুলিশের এক সোর্স তাকে ভয় দেখিয়ে জেরিনকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়।

তিন আসামি গ্রেপ্তার

মেয়ে নিখোঁজের এক দিন পর জেরিনের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ফাহিম, তার মা ফারহানা বেগম ও ফারহান মাসুদ নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় পুলিশ তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করে। তবে ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি জেরিনের।



নিখোঁজ জেরিনকে জোর করে ’বিয়ে করেছে’ গন্ডার

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ’ঘটনার পরে ফাহিমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুন নামের পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া যে যুবকের কাছে জেরিনকে ফাহিম তুলে দিয়েছিল, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ’প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে, এই মামুন পল্লবী বিহারি ক্যাম্পের গন্ডার নামের এক সন্ত্রাসী ছেলের সঙ্গে জোড় করে জেরিনের বিয়ে দিয়েছে। গন্ডারের নামে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়।’


পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি গায়েব

ফাহিমের ভাষ্যমতে, মামুন নামের যে ব্যক্তি জেরিনকে নিয়ে গিয়েছিল, তার এখনো কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ। তার বাসাতেও তালা দেওয়া। আর ওই ব্যক্তির যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিল ফাহিম, সেটিও বন্ধ। এমন ঘটনার পর ফাহিমের কথায় মামুন নামের ওই ব্যক্তির সন্ধান পেতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।