জাম্বু বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও সুপরিচিত অভিনেতা। ছোটবড় সবার কাছেই তার নামটি বহুল পরিচিত। তার মূলনাম নাম বাবুল গোমেজ।সিংগাইর মানিকগঞ্জের সন্তান জাম্বু। দশাসই একটা শরীর, কৃষ্ণবর্ণ। মাথায় একটাও চুল নেই। ঠোটের কোণে নিষ্ঠুর এক হাসি। এটুকু বর্ণনাতেই বোঝা যায় যে নিখাঁদ এক নেতিবাচক চরিত্রের কথা বলা হচ্ছে।নামীদামি সব অভিনেতার সঙ্গে সমানতালে অভিনয় করে গেছেন।দর্সক নন্দিত এই ভিলেন

নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রের এক আলোচিত নাম জাম্বুর। পর্দায় তার বেশভূষা, কথাবার্তা, মারপিট ছিল দেখার মতো। অনেকেই তো আবার দুষ্টুমির ছলে বলেই ফেলতেন জাম্মু হয়ে গিয়েছো। নামীদামি সব অভিনেতার সঙ্গে সমানতালে অভিনয় করে গেছেন।দর্সক নন্দিত এই ভিলেন ২০০৪ সালে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।খল এই অভিনেতার মৃত্যুর এত বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু কোথায়, কেমন আছেন তার ছেলে-মেয়ারা?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বড় ছেলে ডায়মন্ড একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। ছোট ছেলে সাম্বু বেশ কটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাত্রায় অভিনয় করেন। যাত্রার ব্যানারেও লেখা থাকে ’জাম্বুর ছেলে সাম্বু’। জাম্বুর ভক্তরা সাম্বুকে দেখতে ভিড় করেন। বাবার কারণেই এই পরিচিতি।

সাম্বু বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর আর কেউ খবর নেয় নাই। আমি অভিনয় করি বলে ফাইটার ক্লাবের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। এফডিসিতে মাঝেমধ্যে যাই। পরিবারেও বাবাকে সেভাবে স্মরণ করা হয় না। মানুষ দিন দিন ভুলে যাচ্ছে বাবাকে। এটাই কষ্ট দেয়। আর যা–ই হোক, তিনি তো একজন অভিনেতা ছিলেন।

জাম্বুর আসল নাম বাবুল গোমেজ।শিষনাগ ছবি দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন এই খল অভিনেতা। ’তারা’ নামের একজন প্রয়াত খল অভিনেতা জাম্বুকে এফডিসিতে নিয়ে আসেন। দেখতে গোলগাল ও স্থূলকায় হওয়ায় নির্মাতা দেলোয়ার জাহান তার নাম দেন ’জাম্বু’। বাংলা সিনেমার একসময়ের এই আলোচিত ব্যক্তির অস্তিত্ব এখন এতটাই বিলীন যে তার আসল নাম নিয়ে সিনেমাপাড়ায় রয়েছে নানা মত। অনেকে বলেন শুরুতে তাঁর নাম ছিল সুখলাল বাবু।

প্রসঙ্গত,জাম্বু ১৯৪৪ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুখলাল বাবু, বাবুল গোমেজ নামেও পরিচিত। দেখতে গোলগাল ও স্থূলকায় হওয়ায় নির্মাতা দেলোয়ার জাহান চলচ্চিত্রে তার নাম দেন ’জাম্বু’। জাম্বুর দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক।