পুরো নাম রানু মারিয়া মণ্ডল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রানু মণ্ডল। ১৯৬৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর জেলার কার্তিকপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা আদিত্য কুমার। তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। একেবারেই শৈশবেই মা–বাবাকে হারান রানু মণ্ডল। বড় হয়েছেন অন্যের বাড়িতে। স্কুলে যাওয়া হয়নি। সুরেলা কণ্ঠ, পরিষ্কার উচ্চারণ, সরলতা ছিল সম্পদ। বাংলায় কথা বলেন স্পষ্ট উচ্চারণে, টুকটাক ইংরেজিও বলতে পারেন


লতা মঙ্গেশকরের ’এক প্যার কা নগমা হ্যায়’ গান গেয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিলেন রানু মণ্ডল। ফেসবুক থেকে এখন তিনি পৌঁছে গিয়েছেন বলিউডে। গাইছেন হিমেশ রেশমিয়ার আগামী ছবিতে। লতা মঙ্গেশ কি শুনেছেন রানুর গলায় তাঁর গান? কেমন লাগল তাঁর? আইএএনএসকে সাক্ষাত্কারে ভারতের নাইটিঙ্গেলের প্রতিক্রিয়া, ’আমার নাম ও কাজের জন্য কারও ভালো হলে, নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।’

গান শেখার প্রথম দিন থেকেই ভারতের সকলেই লতা মঙ্গেশকর হতে চান। কিন্তু লতা লতাই। সেটাই মনে করিয়ে দিলেন সুরসম্রাজ্ঞী। তাঁর মতে,’’নকল করে বেশিদিন সাফল্য ধরে রাখা যায় না। আমার বা কিশোর দা (কিশোর কুমার), রফি সাব (মহম্মদ রফি), মুকেশ ভাইয়া বা আশার (আশা ভোঁসলে) গান গেয়ে স্বল্প সময়ে নজর কাড়েন নতুন গায়ক-গায়িকারা। কিন্তু এটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।’’

বিভিন্ন রিয়েলিটি শোয়ের প্রসঙ্গে লতা মঙ্গেশকর বলেন, ’’অনেকে খুব সুন্দর গান করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক সাফল্যের পর ক’জন টিকে থাকেন? আমি তো শুধু শ্রেয়া ঘোষাল ও সুনিধি চৌহানকে মনে রেখেছি।’’

নতুন শিল্পীদের সুরসম্রাজ্ঞীর পরামর্শ, নিজের মতো হও। আমার ও অন্যদের চিরনবীন গানগুলি নিশ্চয়ই গাইবে। তবে একটা সময় পর নিজের গান ও পরিচিতি তৈরি করা দরকার। আর উদাহরণ হিসেবে নিজের বোন আশা ভোঁসলের কথা তুলে ধরেছেন লতা। তাঁর কথায়,’’আশা নিজের মতো করে না গাইলে চিরকাল আমার ছায়া হয়ে থেকে যেত। প্রতিভা থাকলে কোথায় যাওয়া যায়, তার উজ্জ্বল নজির আশা।’’




উল্লেখ্য,লতা মঙ্গেশকর ভারতের স্বনামধন্য গায়িকা তিনি এক হাজারের বেশি ভারতীয় ছবিতে গান করেছেন। এছাড়া ভারতের ২০টি অাঞ্চলিক ভাষাতেও গান গাওয়ার একমাত্র রেকর্ডটি তারই। বাংলাতেও তিনি অনেক গান করেছেন। ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ভারত রত্ন পাওয়া তিনিই দ্বিতীয় সঙ্গীতশিল্পী