আলোচিত রিফাত শরীফের ঘটনা যে মামলাটি সেই ঘটনা নিয়ে বিস্তার ভাবে শোনা গিয়েছিল অনেক কিছু তবে তার মধ্যে যেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটি হচ্ছে এই মামলার অন্যতম আসামি রিফাতের স্ত্রী মিন্নি নয়ন বন্ড এর সাথে সংসার করছিলেন এবং নয়ন বন্ড রিফাতের বাল্যকালের বন্ধু ছিলেন তারা একসাথে একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন এই দুই বন্ধুর মাঝখানে দেয়াল তৈরি করে দেয় আলোচিত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি

আরো পড়ুন

Error: No articles to display


বরগুনার রিফাত শরীফ এর মামলার রায় আজ দেওয়া হবে তবে এই মামলার রায় নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে শুনানি চলছিল এবং সেখানে এই মামলার অন্যতম আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির পরিবার বলছে যে এটি সম্পূর্ণ ভাবে তার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য তাদের মেয়ে কোনভাবেই দায়ী নয় এমনকি তিনি নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে চলছেন


বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিলের পর তার কপি বাইরে প্রকাশিত হয়ে যায়। গত বছরের ২৬ জুন ঘটনর ৬৬ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির। তবে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও মামলার আসামিপক্ষ অথবা মিডিয়াকর্মীরা চার্জশিটের কপি ততদিন হাতে পায়নি। ১৮ সেপ্টেম্বর চার্জশিট আদালত গ্রহণ করার পর এই কপি বাইরে প্রকাশ হয়।

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মো. মাহাবুবুল বারী আসলামের কাছ থেকে চার্জশিটের কপি পাওয়া যায়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, রিফাত শরীফ বরগুনা থানা এলাকায় ডিস লাইনের ব্যবসা করতেন। রিফাত শরীফ ও মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড অনেক আগে বরগুনা জিলা স্কুলে একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন। সে সুবাদে তাদের উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক সেই জবানবন্দি তুলে ধরা হলো : ’আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি। ২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করাকালীন রিফাত শরীফের সঙ্গে ২০১৭ সালে আমার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় রিফাত শরীফ বামনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিল। রিফাত শরীফ আমাকে তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। কলেজে যাওয়া আসার পথে নয়ন বন্ড আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে জ্বালাতন করত। আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সে আমার বাবা ও ছোটভাইকে ক্ষতি করার ভয় দেখাত। বিষয়টি আমি রিফাত শরীফকে জানাইনি।

আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাত শরীফ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক করার কিছু বিষয় আমি লক্ষ্য করি। এ কারণে রিফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি নয়নের মোবাইল ফোন নম্বরে আমার মায়ের মোবাইল ফোন এবং নয়নের দেয়া নম্বর শেষে ৬১১৩ ও একটি নম্বর শেষে ৪৫ দিয়ে নয়নকে কল, মেসেজ এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিতাম। বরগুনা সরকারি কলেজে পড়াকালীন ধীরে ধীরে রিফাত ফরাজী, রিফাত হাওলাদার ও রাব্বি আকনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারণে নয়ন বন্ডের বাসায় আমার যাতায়াত ছিল। নয়নের বাসায় দুজনের সম্পর্কের কিছু ছবি ও ভিডিও নয়ন গোপনে ধারণ করে, যা আমি প্রথমে জানতাম না। নয়নের বাসায় আমি প্রায়ই যেতাম এবং আমাদের শারী.. সম্পর্ক চলতে থাকে।

এরপর গত ১৫.১০.১৮ আমি রোজী আন্টির বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল বেলা ব্যাংক কলোনি থেকে নয়ন বন্ড রিকশাযোগে আমাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রিফাত ফরাজী এবং আরো ৭-৮ জনকে দেখি। শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে এবং নয়নের বাসায় আমার ও নয়নের বিয়ে হয়। তারপর আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি। তখন নয়ন বলে, ওইটা বালামে ওঠে নাই। বালামে না উঠলে বিয়ে হয় না। এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারী.. সম্পর্ক বজায় রাখি। নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস আমি মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে কুয়াকাটা যাই এবং নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি। আমি নয়নের বাসায় আসা যাওয়ার সময় জানতে পারি নয়, ছিনতাই করে এবং তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। এ কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয় এবং রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার পূর্বের ভালোবাসার সম্পর্ক আবার শুরু হয়। গত ২৬ এপ্রিল পারিবারিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ শারী.. সম্পর্ক, মোবাইলে কথা-বার্তা, মেসেজ এবং ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ-সবই চলত।

বরগুনার রিফাত শরীফ এর মামলার রায় আজ দেওয়া হবে তবে এই মামলার রায় নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে শুনানি চলছিল এবং সেখানে এই মামলার অন্যতম আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির পরিবার বলছে যে এটি সম্পূর্ণ ভাবে তার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য তাদের মেয়ে কোনভাবেই দায়ী নয় এমনকি তিনি নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে চলছেন

News Page Below Ad

আরো পড়ুন

Error: No articles to display