ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ছেলের অপরাধের লজ্জা সহ্য করতে পারেননি বাবা, তাই অবশেষে আত্মহত্যার পথই বেছে নিলেন নৈশ প্রহরী বসু মিয়া (৫৫)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে নাঈম ইসলাম (২৭) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।নাঈম সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামের বসু মিয়ার ছেলে।


জানা যায়, আটকের পর নাঈম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ১৬১ ধারায় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করছি বিজ্ঞ আদালতেও সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবে। এরপর পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন এবং ডিএনএ ম্যাচিং করে দ্রুতই চূড়ান্ত অভিযোগপত্র প্রদান করতে পারব।


এব্যাপারে এসআই শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসী নাঈমের গতিবিধি খেয়াল রাখে। এলাকাবাসী ও আমাদের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করে অষ্টগ্রাম তার মামা শফিক মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করার সময় তাকে আটক করা হয় ।

তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি আতিকুর রহমান নাঈমের দেয়া জবানবন্দির বর্ণনা করে বলেন, সে তার পিতা বসু মিয়ার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সড়ক বাজারে নৈশ প্রহরীর কাজ করে। বুধবার বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়।

রাতে দোচালা টিনের ঘরের এক কক্ষে নাঈম স্ত্রী তার সন্তানের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। পর্দা দেয়া পাশের কক্ষে বেড়াতে আসা স্ত্রীর ছোট বোন তামান্না ঘুমান। রাত ১ টার দিকে তামান্নাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে নাঈমকে ব্যাপকভাবে বাঁধা দিয়ে পরাস্ত হয়। নাঈম ধর্ষণ শেষে উঠে যাওয়ার সময় তামান্না চিৎকার শুরু করলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

নাঈম পুলিশকে জানিয়েছে, তার বাবা বসু মিয়া বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে বাড়ি ফিরে নাঈমকে ডাকাডাকি করলে স্ত্রী স্মৃতি আক্তার ঘরের দরজা খুলে পাশের কক্ষে তামান্নাকে ডাক দিয়ে সাড়াশব্দ না পেয়ে চিৎকার করে উঠলে নাঈম ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায়।